আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি সেপ্টেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো সামনে রেখে ২৯ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। তবে তালিকার সব নাম ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একজনই, লিওনেল মেসি। কারণ মেসি আভাস দিয়েছেন, এই ম্যাচ দিয়েই নিজের ক্যারিয়ারের একটি অধ্যায়ের ইতি টানতে চলেছেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে আগেই জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা নিজেদের শেষ দুই ম্যাচ খেলবে আগামী মাসে। এর মধ্যে একটি ম্যাচ হবে আলবিসেলেস্তেদের ঘরের মাঠে। ৫ সেপ্টেম্বর মনুমেন্টালে ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল। এই ম্যাচের আগেই মেসি দিয়েছেন আবেগি এক বিদায়ী বার্তা।
অরলান্ডো সিটিকে হারিয়ে ইন্টার মিয়ামির লিগ কাপ ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর মেসি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচটি আমার জন্য খুবই বিশেষ কিছু হতে চলেছে। কারণ এটাই ঘরের মাঠে আমার বাছাইপর্বে খেলা শেষ ম্যাচ হবে।’ অর্থাৎ, এটিই হতে পারে আর্জেন্টাইন জার্সিতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার শেষ ঘরের মাঠে খেলা। এরপর বিশ্বকাপে মেসি খেলবেন কি না তা অবশ্য কিছু জানাননি তিনি। আবার, বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা আর ঘরের মাঠে কোনো ম্যাচ খেলবে কি না তাও নিশ্চিত নয়। তাই, বিদায়ের আগে মেসিকে আর আর্জেন্টিনায় নাও খেলতে দেখা যেতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আগেই খেলা নিশ্চিত করা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ৫ সেপ্টেম্বর বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হবে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর তারা খেলতে যাবে ইকুয়েডরে। অভিজ্ঞতা আর তরুণ প্রতিভার মিশেলে স্কোয়াড সাজালেও মেসির উপস্থিতি বাকিদের আড়াল করে দিয়েছে।
মুহূর্তটির গুরুত্ব বুঝে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন টিকিটের দাম ১০০ থেকে ৫০০ ডলারের মধ্যে রেখেছে। ভক্তরা ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। কনমেবলও বাড়তি আবেগ ছড়িয়েছে, মেসির আর্জেন্টিনা জার্সির ছবি দিয়ে লিখেছে, “দ্য লাস্ট ড্যান্স ইজ কামিং।”
অবশ্য স্কালোনির সামনে বাস্তব কাজও আছে। ইনজুরির কারণে ফাকুন্দো মেদিনা বাদ পড়েছেন, অ্যাঞ্জেল কোররিয়াও নেই। তাই চ্যাম্পিয়ন দলের বিশ্বস্ত তারকা এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, রদ্রিগো ডি পলদের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন নতুন প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় ক্লদিও একচেভেরি, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তোনো আর নিকো পাজ। তবুও মাঠে যে-ই নামুন, আলো মেসির ওপরেই থেমে থাকবে।
আর্জেন্টিনা স্কোয়াড
গোলরক্ষক:
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), ওয়াল্টার বেনিতেজ (ক্রিস্টাল প্যালেস), জেরোনিমো রুলি (মার্সেই)।
রক্ষণভাগ:
ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম), নিকোলাস ওটামেন্ডি (বেনফিকা), নাহুয়েল মোলিনা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), গনজালো মন্টিয়েল (রিভার প্লেট), লিওনার্দো বালারদি (মার্সেই), হুয়ান ফয়থ (ভিয়ারিয়াল), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (লিওঁ), মার্কোস আকুনা (রিভার প্লেট), হুলিও সোলের (বর্নমাউথ)।
মধ্যমাঠ:
আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), এক্সেকুইয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), অ্যালান ভারেলা (এফসি পোর্তো), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়র্স), থিয়াগো আলমাদা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), নিকো পাজ (কোমো), রদ্রিগো ডি পল (ইন্টার মায়ামি), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেটিস)।
আক্রমণভাগ:
ক্লদিও একচেভেরি (বায়ার লেভারকুসেন), ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তোনো (রিয়াল মাদ্রিদ), ভ্যালেন্তিন কার্বোনি (জেনোয়া), জুলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), জুলিয়ান আলভারেস (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), নিকোলাস গনসালেস (জুভেন্টাস), লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), লাওতারো মার্টিনেজ (ইন্টার), হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস)।