শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে বিএনপির ২৪ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এই উপলক্ষে ইউনিয়নের স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা ও সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়, যা এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ফয়জুর রহমান ফিরোজ। তার উপস্থিতিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে এ যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি খাদিমুল ইসলাম, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নকলা পৌর জামায়াতের সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবির, ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমানসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারা।
ফয়জুর রহমান ফিরোজ বলেন, ‘আপনারা আজ আদর্শিক ইসলামী দলে যোগ দিয়ে সঠিক পথ বেছে নিয়েছেন। শুধু সদস্য হওয়াই নয়, ইসলামের বিধান মেনে আদর্শিক দায়ী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই হবে আসল সাফল্য।’
যোগদানকারী বিএনপি নেতাকর্মীরা হলেন- সোহেল রানা, মো. ইসমাইল, জাহিদুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, মো. মানিকুল, মো. ফারুক, মো. মামুন, মো. হাসান, মো. সাগর মিয়া, নোনা মিয়া, মো. রাকিবুল হাসান, ইবনে আনাজ, শফিকুল ইসলাম, সরাফাত মিয়া, হায়তুলা, মো. সেকান্দর আলী, মুসুদ, রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিক, মিলু মিয়া, মো. সেলিম মিয়া, মো. জাহিদুল ইসলাম এবং মো. মোখন।
নতুন সদস্যরা বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাজনৈতিক দল। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা জামায়াতের দেশপ্রেমমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়েই যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তারা আরও বলেন, ‘জামায়াত আজ একমাত্র নিরাপদ ও আস্থাভাজন রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের সব স্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।’
জামায়াতে ইসলামীর নকলা উপজেলা আমীর গোলাম সারোয়ার জানান, ‘যোগদানকারীরা কয়েক মাস ধরে জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তাদের হাতে প্রাথমিক বই-পুস্তক তুলে দেওয়া হয়। এসব অধ্যয়ন শেষে গঠনতন্ত্র সম্পর্কে সচেতন হয়েই তারা দলের সহযোগী সদস্য হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে সদস্যপদ অর্জন একটি ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া। বর্তমানে তারা সহযোগী সদস্য। ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে কর্মী এবং পূর্ণ সদস্য ‘রোকন’ হওয়ার সুযোগ পাবেন।’
তবে বিএনপি পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খোরশেদুর রহমান বলেন, ‘যারা যোগদান করেছেন তারা প্রকৃত অর্থে বিএনপির কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতা নন। আমরা তাদের কখনো দলীয় কার্যক্রমে দেখিনি। এ ধরনের কর্মী দল ছেড়ে গেলে বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে না। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল- এখানে কর্মী আসা-যাওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার।’
উল্লেখ্য, এই যোগদান অনুষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা নকলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।